সপ্তম শ্রেণি পাঠ ৭ ও ৮ গাইড ও নোট

Class 7 Guide & Notes
222

চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেই শিল্পী জয়নুল আবেদিন ও অন্য প্রতিষ্ঠাতা শিল্পীরা ক্ষান্ত থাকেন নি। শিল্পীরা যাতে সমাজের প্রয়োজনে নানাভাবে ছবি আঁকাকে কাজে লাগাতে পারে সে দিকেও তাঁরা নজর দিয়েছিলেন। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিল্পীদের জন্য সম্মানজনক পদ তৈরি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিত্রশিল্পের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করে জনমত তৈরির জন্য শিক্ষক ও ছাত্ররা যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থকেন। এই চেষ্টা ছিল একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলন। কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। অন্তত দশ থেকে বারো বছর লেগেছে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বোঝাতে যে, একটা সুন্দর সমাজ ও সুন্দর রাষ্ট্র তৈরিতে চিত্রশিল্প অন্যান্য পেশার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- প্রকৌশলী, ডাক্তার, শিক্ষক, প্রশাসক, স্থপতি, অভিনেতা, সংগীতশিল্পী উন্নত সমাজের জন্য প্রয়োজন, তেমনি চিত্রশিল্পীরাও সুন্দর সমাজ গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারছে

তাই খুব সহজেই বলা যায়, বাংলাদেশের শিল্পকলাকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য শিল্পী জয়নুল আবেদিন এক বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে সমানভাবেই সংগ্রাম করেছেন শিল্পী আনোয়ারুল হক, শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ, পটুয়া কামরুল হাসান, খাজা শফিক আহমেদ, শফিকুল আমিন ও শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া। প্রথম ১২ বছরের শিল্পশিক্ষায় যাঁরা এসেছিলেন তাঁরাও সমান নিষ্ঠা নিয়ে তাঁদের গুরুদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্পচেতনার একটি বৈশিষ্ট্য ও রূপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা বাংলাদেশের শিল্পকলা চর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে তাঁরা হলেন- কাইয়ুম চৌধুরী, রশীদ চৌধুরী, মূর্তজা বশীর, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল বাসেত, হামিদুর রহমান, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, হাশেম খান, রফিকুন নবী, নিতুন কুণ্ডু, দেবদাস চক্রবর্তী, আবু তাহের, মাহমুদুল হক, মনিরুল ইসলাম, আবুল বারক আলভী প্রমুখ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...